যদি দেশ সম্পর্কে বলতে হয় তবে বলবো যে ইউরোপের সবগুলো দেশই খুবই সুন্দর।আপনি একটাকে আরেকটার সাথে তুলনা করতে পারবেন না। লাটভিয়া ২০০৪ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যোগদান করে এবং ২০০৭ সালে সেনজেন আওতা ভুক্ত হয়। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ ভালো. বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীরা লাটভিয়া সম্পর্কে তেমন জানেনা বিধায় তারা কেবল জার্মানী, ফ্রান্স, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ডেনমার্ক এসব দেশে পড়তে যেতে চায়।  তবে ২০১৯ থেকে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান থেকে প্রচুর ছাত্রছাত্রী লাটভিয়াতে পড়তে যাচ্ছে। এর প্রধান কারন হলো আপনি যদি জার্মানী, ফ্রান্ড বা সুইডেন যান তবে সেখানে নানা সমস্যা সামনে আসবে যেমন ইমিগ্রেশন নীতিমালা, সিটিজেনশিপ পাবার নিয়ম, বিয়ে করতে না পারা, বিশাল করের বোঝা ইত্যাদি। ওসব দেশে পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি বা ব্যবসা করার ওপরও বেশ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। লাটভিয়া এদিক থেকে ভালো।  লাটভিয়াতে বর্তমানে ৫ হাজার এর ওপর লোক আছে যাদের নিজের দোকানপাট নিয়ে ব্যবসায় করছে। লাটভিয়া সেনজেন দেশ হওয়াতে আপনি সেখান থেকে যেকোন ২৭টি দেশে চলে যেতে পারছেন খুব সহজে। সেনজেনে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক বাংলাদেশী পড়াশোনা করছে। আরেকটা বিষয় বলে নেয়া দরকার লাটভিয়ার ব্যপারে। লাটভিয়াতে আপনি যদি পড়াশোনা শেষ করতে পারেন তবে আপনি ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে বেশী সুজোগ সুবিধা পাবেন। এখানে এক মাস কাজ করলে আপনি বেতন পাবেন ৫৫০ ইউরো থেকে ৬০০ ইউরো যা বাংলা টাকায় ৫৫০০০-৬০০০০ টাকা হবে। যারা মূলত পড়াশোনা করতে আসেন তাদের জন্য পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া খুবই সম্ভব কারন টিউশন ফি কম। সেখানে থাকা ও খাওয়ার খরচও কম, ফলে আপনি যা পার্ট টাইম চাকরি করবেন তার বেশীরভাগই রয়ে যাবে। আরেকটি বড় বিষয় হলো আপনি চাইলে লাটভিয়াতে খুব সহজে বিয়ে করে ইউরোপিয়ান নাগরিকত্ব নিতে পারেন। আর এটি পেতে তেমন কোন সংগ্রাম করতে হয়না জার্মানী বা ফ্রান্সের মতো। পড়াশুনারত অবস্থায়, চাইলে আপনি আপনার রেসিডেন্ট পার্মিট ব্যবসায়িক পার্মিট এ পরিবর্তন করতে পারেন। অনেকেই এই বিষয়টি জানেনা। ব্যবসায়িক পার্মিট এ পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে ব্যাঙ্ক এ কিছু টাকা দেখাতে হবে। লাটভিয়ার বেশীরভাগ ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স ও পি এইচ ডি তে পড়াশুনা করতে পারা যায়।

পড়াশোনার ক্ষেত্রে ইউরোপের অন্যান্য দেশের নিয়মকানুন থেকে লাটভিয়ার নিয়মকানুন একটু সহজ বিধায় ভিসার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকে ভিসা পাবার। তবে সবচেয়ে বড়ো ব্যপার, লাটভিয়া হচ্ছে ইউরোপের গেটওয়ে। অনেকেই নামমাত্র পড়াশোনার জন্যে এসে বড়ো বড়ো দেশে চলে যাচ্ছেন। আর এই যাওয়াতে কোন বাধা নেই। আপনি চাইলে লাটভিয়ার বড়ো বড়ো ইউনিভার্সিটির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন দেখতে পারেন তাদের ক্যাম্পাসগুলো বড়ো বড়ো দেশে আছে কিনা। সংক্ষেপে আপনাদের কে ইউনিভার্সিটি তে অপ্প্লিকেসন করতে কি কি ডকুমেন্টস দরকার তা বলে দিচ্ছি।

১#  পাসপোর্ট এর কপি

২#  SSC ও HSC এর সার্টিফিকেট

৩# SSC ও HSC এর মার্ক শীট

৪#  Bachelor এর সার্টিফিকেট ও মার্কশীট ( যারা মাস্টার্স এ আবেদন করবেন )

৫#  Recomendation লেটার

৬# এপ্লিকেশন ফী  ৩০০ ইউরো বা ৪০০ ইউরো

৭#  টিউসন ২০০০-৩২০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। তবে এটি নির্ভর করে ইউনিভার্সিটি ও কোন বিষয়ের ওপর পড়াশুনা করতে চান তার ওপর।

৮# English language Proficiency যেমন IELTS 5.0- 6 .00, TOFEL -550

তবে লাটভিয়া , লিথুয়ানিয়া , এস্তোনিয়া এর ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ স্কাইপের মাধ্যমে আপনার একটা exam নিয়ে আপনাকে change দিতে পারে। IELTS করা থাকলে ভিসার গারান্টি ১০০% ধরে রাখেন .